পাঁচ মিনিটের কর্ত্তা কবিতা- কালিদাস রায়

পাঁচ মিনিটের কর্ত্তা

কালিদাস রায়

আজকে বসি’ ঠাকুরদাদার কেদারায়
খোকা আমি গিয়াছি তা ভুলিয়া।
ছোঁয়না মাটি দুলাচ্ছি তাই দুটি পায়
খবরের এই কাগজখানা খুলিয়া।
চশমাটা তাঁর কাণে দিছি লাগিয়ে
চোখ ছাড়িয়ে নাকের পরে ঝোলে যে।
গুড়গুড়িটার নলটা নিছি বাগিয়ে
লাগছে নাকি ঠাকুরদাদা বোলে হে?
কে আছ হে এস দেখি এদিকে
তামাক দিতে বল না রামনিধিকে।

সাদা কাগজ সামনে এত কি লিখি!
পটলা কেন জটলা করিস ওখানে।
রোকা নে যা পান্তুয়া আর জিলিপি
গামলা ভরে আনত গিয়ে দোকানে।
হাসছ মাখন? মেজাজ আমার বোঝ না
চামড়া পিঠের তুলব সবার চাবুকে,
দাঁড়িয়ে আছ? চাবি কোথায় খোঁজ না
গ্রাহ্য তোমার হচ্ছে না যে বাবুকে।
চালাও আজি ঢালাো পোলাও খিঁচুড়ি,
হবেনাক অভাব কোন কিছুরি।

ডাকের চিঠি রাখবে আমার দেরাজে
জবাব টবাব লিখব আমি দুপুরে,
গ্রাহ্য মোটেই কচ্ছে নাক এরা যো
কড়া শাসন চাই ইহাদের উপরে!
অবাক হ’য়ে দাঁড়িয়ে কেন হাঁ করে
ডাকবে মোরে মোটর গাড়ী থামায়ে,
চাদর লাঠি আন্ দেখি রাম ধাঁ করে
নাপিতো ডাক গোঁপদাড়ী নিই কামায়ে।
যাচ্ছ কোথা? হয়না বুঝি কেয়ার-এঃ
দেখছনা যে বাবু তোমার চেয়ারে।

ঠাকুর দাদা যদিই পড়ে আসিয়া
ভাবছো বুঝি, হব বেকুব বোকাটি?
হাত বুলিয়ে বলবো আমি হাসিয়া,—
“এ-ঘরেতে গোল করো না খোকাটি।
একশতবার মকসো কর লোখাটা
মাধব খুড়ো আসবে তোমায় পড়া’তে
আজকে যে চাই নামতা-ঘোষা-শেখাটা
নইলে প্রহার আছে তোমার বরাতে।
পাকা চুল মোর তুলতে বাবার মামাকে
ডাকতে না হয় পাঠিয়ে দিও রামাকে।

রোদে রোদে আজ হবে না বেড়ানো,
ঘরে বসে ছবিই আঁকো শেলেটে।
হবে না আম কুড়ানো, নাই এড়ানো
দুধ খাবে আজ ঢেলে চায়ের পেলেটে।
পাড়ার যত দুষ্ট ছেলে বকাটে
সঙ্গে মিশে বদমায়েসী শিখালে।
দুপুর বোলা বন্ধ রবে কপাটে।
ছুটি পেলে পড়লে বেলা বিকালে,
ছাদের পরে উড়িয়ে দিবে ঘুড়িটি
সঙ্গে শুধু থাকবে দিদি-বুড়িটি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10-5=? ( 5 )