বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ৭ ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য বিশ্লেষণ

Assignment for class 8: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়

২। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ৭ ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য বিশ্লেষণ।

বাঙালীর ইতিহাসে অনেকগুলাে দিন আছে, যা আমাদের মনে রাখতে হবে। ১৯৭১ সালের৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁরজীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণটি দিয়েছিলেন। ১০ লক্ষাধিক লােকের সামনে পাকিস্তানী দস্যুদেরকামান-বন্দুক-মেশিনগানের হুমকির মুখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওইদিন বজ্রকণ্ঠে ঘােষণা করেন। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রামস্বাধীনতার সংগ্রাম।’বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণ থেকেই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতিনিতে শুরু করে। ১৯৬৬’র ৬-দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচনের পর যখন বাংলার জনগণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনা শুনতে অধীর আগ্রহে বসেছিল, তখনই ১৯৭১সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানবাংলাদেশকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করার জন্য দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।সেদিন উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলার মুক্তিকামী জনতার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়েতােলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক রেসকোর্সে এ ভাষণ যখন দিচ্ছিলেন ঠিক ওইদিনইঢাকায় এসে পৌঁছান জেনারেল টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী। পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর আলােচনারঅন্তরালে সামরিক প্রস্তুতিই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বরান্বিত করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ভাষণএ দেশের জনগণকে দারুণভাবে আন্দোলিত করে।বঙ্গবন্ধু জনসভায় আসতে একটু বিলম্ব করেন। স্বাধীনতার ঘােষণা দেওয়া হবে কি হবে না, এ নিয়েভখনাে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে নেতৃবৃন্দের মধ্যে। বেলা ঠিক সােয়া ৩টায় সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ওমুজিব কোর্ট পরিহিত বঙ্গবন্ধু যখন মঞ্চে ওঠেন তখন বাংলার বীর জনতা করতালি ও স্লোগানের মধ্যেভাকে অভিনন্দন জানান।৭ই মার্চ সকাল থেকেই ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাএবং ছাত্র নেতাদের ভিড়।

দুপুর দুটার দিকে আব্দুর রাজ্জাক এবং তােফায়েল আহমেদসহ তরুণনেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেখ মুজিব তার বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন জনসভার উদ্দেশে।এদিকে সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে। সােহরাওয়ার্দীউদ্যান সে সময় রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল। সেই রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখমানুষের অপেক্ষার পালা শেষ করে সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি এবং হাতাকাটা কালাে কোট পরে শেখমুজিব উপস্থিত হয়েছিলেন। আগের নির্ধারিত রাস্তা বাদ দিয়ে ভিন্নপথে তাকে সেখানে নেওয়াহয়েছিল। মঞ্চে সকাল থেকেই গণসংগীত চলছিল। সেদিন শেখ মুজিব সেই মঞ্চে একাই ভাষণ হয়েছিল। মঞ্চে সকাল থেকেই গণসংগীত চলছিল। সেদিন শেখ মুজিব সেই মঞ্চে একাই ভাষণদিয়েছিলেন।৭ই মার্চে সরাসরি স্বাধীনতার ঘােষণা আসতে পারে। মানুষের মধ্যে এ ধরনের প্রত্যাশা তৈরিহয়েছিল। প্রায় ১৮ মিনিটের এই ভাষণে সবদিকই উঠে এসেছিল। যাতে বঙ্গবন্ধুকেবিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা না হয়, সেজন্য তিনি চারটি শর্ত দিয়ে পাকিস্তান ভাঙার দায়নেননি। অন্যদিকে এই একটি ভাষণের মাধ্যমে তিনি একটি জাতিকে সশস্ত্র বাঙালি জাতিতেরূপান্তর করেছিলেন। ‘স্বাধীনতার বীজ তিনি বপন করেছিলেন। এবারের সংগ্রাম, মুক্তিরসংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম। ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তােলাে। তােমাদের যার যাকিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মােকাবিলায় প্রস্তুত থাকো- এই বক্তব্যের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু একটাগেরিলা মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। লাঠি, ফেস্টুন হাতে লাখ লাখ মানুষ উত্তপ্তস্লোগানে মুখরিত থাকলেও শেখ মুজিবের ভাষণের সময় সেখানে ছিল পিনপতন নিরবতা।ভাষণ শেষে আবার স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান মুখর হয়ে উঠেছিল ঢাকার রাস্তাগুলাে।বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই একমাত্র ভাষণ যার মধ্য দিয়ে গােটা বাঙালি জাতি সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব, সন্দেহ-অবিশ্বাস ঝােড়েস্বাধীনভার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনভা অর্জন হয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চেরভাষণই হচ্ছে বিশ্বসেরা ভাষণ। এর আগে মানুষের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। কারণ সংসদ অধিবেশন বসারপ্রস্তুতি চলছে প্রথমে ৩ মার্চ, সরে ২৫ মার্চ। অন্যদিকে আবার নানা ধরনের সমাঝােতা বৈঠক চলছে। বঙ্গবন্ধু ভার ৭মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির বঞ্চনার কথা বলেছেন, রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা বলেছে, বাঙালির মুক্তির সুস্পষ্টনির্দেশনা দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির কথা বলেছেন, সর্বোপরি স্বাধীনতার কথা বলেছেন। বস্তুত এটিই ছিল।স্বাধীনতার ঘােষণা। ‘তােমাদের কাছে আমার অনুরােধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তােলাে। তােমাদের যা কিছুআছে, ভা-ই নিয়ে শত্রুর মােকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের ভরে রাস্তাঘাটN যা যা আছে সব কিছু আমি যদি হুকুমদিবার নাও পারি, (ভামরা বন্ধ করে দেবে।’ ‘মলে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দিব। এ দেশের মানুষকেমুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবান্নের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দই গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ। ভারপরও উল্লেখিত বাক্যগুলােয় মুস্পষ্টভাবেস্বাধীনভার ঘােষণা করা হয়েছে।

৭ মার্চের ভাষণে কী নেই যে, এটাকে স্বাধীনভার (ঘাষণা বলা যাবে না। সব বিজ্ঞবিশ্লেষকই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলেছিল, ৭ মার্চের ভাষণই হচ্ছে স্বাধীনতার ঘােষণা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধেরইতিহাসে ৭ মার্চ এবং ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক গুরুত্ব। বাঙালি জাভি যেন যুগ যুগ ধরে এভাষণের জন্য অপেক্ষা করেছে তাদের মুক্তির জন্য, স্বাধীনতার জন্য। ইভেমাধ্য স্বাধীনভা ঘিরে অনেক সরকারি-বেসরকারি দিবস পালিত হয়। কিন্তু ৭ মার্চ সেভাবে কোনাে দিবস হিসেবে পালিত না। ইতিহাসের প্রয়ােজনে, নতুনপ্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস প্রবাহিত করার জন্য ৭ মার্চকে সরকারিভাবে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা উচিত।সবাই বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার ঘােষণা। তবে ৭ মার্চ কেন ‘স্নাধীনতা ঘােষণা দিবস’ নয়?সংশ্লিষ্ট সব মহল বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখব এটিই হচ্ছে এ বছরের স্বাধীনতার মাসের প্রত্যাশা।বিশ্বের অনেক মনীষী বা নেতার অমর কিছু ভাষণ আছে। বিশ্বের মধ্যে এই একটি মাত্র ভাষণ, যাযুগের পর যুগ, বছরের পর বছর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেজে চলেছে কিন্তু ভাষণর্টির আবেদন এতটুকুআজো কমেনি। বরং যখনই প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক ভাষণটি শ্রবণ করেন, তখনই তাদের বিশ্বের অনেক মনীষী বা নেতার অমর কিছু ভাষণ আছে। বিশ্বের মধ্যে এই একটি মাত্র ভাষণ, যাযুগের পর যুগ, বছরের পর বছর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেজে চলেছে কিন্তু ভাষণটির আবেদন এতটুকুআজো কমেনি। বরং যথনই প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক ভাষণটি শ্রবণ করেন, তখনই তাদেরমানসপটে ভেসে ওঠে স্বাধীনতার গৌরবগাথা আন্দোলন-সংগ্রামের মুহূর্তগুলাে, আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠেদেশপ্রেমের আদর্শে।৪৬ বছর ধরে একই আবেদন নিয়ে একটানা কোনাে ভাষণ এভাবে শ্রবণের নজির বিশ্বের ইতিহাসেনেই। নানা গবেষণার পর বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতিপেয়েছে। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইউনেস্কোরমহাপরিচালক ইরিনা বােকোভা প্যারিসের ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এইস্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘােষণা করেন।

Published by

QnApedia

Admin @ QnApedia

2 thoughts on “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ৭ ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য বিশ্লেষণ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10-5=? ( 5 )