শ্রমিকের গান কবিতা- কালিদাস রায়

শ্রমিকের গান

কালিদাস রায়

কামারশালে আগুনতাত ঐ নিভল ধীরে,
নেহাই পেল রেহাই আজ এ দিনের মত।
ধূলোয় ঝুলে ভূত সেজে সব চলছি ফিরে,
বিশ সারিতে বিশ কর্মার সেবক যত।
বাজাও বাঁশী জোরসে বহুৎ বাজাও বাঁশী,
ফেরার বেলায় এলায় শরীর চরণ-রথে।
বাজাও তবু বাঁশের বাঁশী ছড়াও হাসি,
নাচব তাহার তালে তালে নগর-পথে।

তাঁতগুলোতে থামল এখন ঠকঠকানি,
ঘূর্ণি হতে রেহাই পেল নাটাই টাকু।
টানা-পড়েন থামায় তাদের টানাটানি,
আসা যাওয়ার পথে এখন ঘুমায় মাকু।
বাজাও বাঁশী বাজাও সানাই সানাইদারও
চুলের গেছো দুলিয়ে নাচো বালিকারা।
রাজা উজীর ধার ধারি না এখন কারো,
ধূলায় ঘামে যদিও সব ভূতের পারা।

হাফাচ্ছিল ময়লা বাতাস ধোঁয়ায় তাতে,
মোদের মত একটুখানি জুড়াক আহা।
শ্রান্ত আকাশ সেও ছুটি পাক মোদের সাথে,
গাঙের বুকে একটু থামুক নৌক বাহা।
বাজাও বাঁশী, মাৎ করে দাও চাঁদের গানে,
খাটনি কেলেশ তুড়ির চোড়ে যাকগে উড়ে।
সূর্য্যটাকে অস্তে নামাও প্রাণের টানে,
গলাও তারে মন-মাতানো প্রাণের সুরে।

নেহাৎ ছোট গরীব মোরা, নেহাৎ হেয়,
সাধ মিটিয়ে নাচতে তবু হাসতে পারি।
কেউবা পিতা, কেউবা ভ্রাতা, প্রেমিক কেহ,
প্রাণভরে-ত মোরাও ভালবাসতে পারি।
বাজাও বাঁশী মাতাও ভালবাসার গানে
সে গান যেন জাগায় প্রাণে নতুন আশা,
সে গান যেন চোখের জলে পাথার আনে,
জাগায় গলায় দরদ-রাঙা প্রাণের ভাষা।

আশমানে ঐ নাম-না-জানা তারার মালা,
তাদের মতই তবু বহুৎ শক্তি ধরি,
আমরা দেশের ভাঁড়ার-ঘরের চাবি তালা,
সমাজ-দেহে ফুসফুসেরই কাজটি করি।
বাজাও বাঁশী রাত্রি আসে দিনের পরে,
বিধির এমন কড়া আইন বারো মাসই,
খাটনি শেষে খেলার মাতন মোদের তরে,
কাজের শেষে পেলাম ছুটি, বাজাও বাঁশী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10-5=? ( 5 )